মাল্টিটাস্কিংয়ের প্রধান ক্ষতিগুলো
মাল্টিটাস্কিংকে অনেকে 'দক্ষতা' মনে করলেও বৈজ্ঞানিকভাবে এটি মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এবং গ্র্যান্ড মাস্টার ইউরী বজ্রমুনির দর্শন অনুযায়ী, মাল্টিটাস্কিংয়ের প্রধান ক্ষতিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. কর্মক্ষমতা বা প্রোডাক্টিভিটি হ্রাস (৪০% পর্যন্ত)
মস্তিষ্ক আসলে একসাথে দুটি কাজ করতে পারে না, বরং সে খুব দ্রুত এক কাজ থেকে অন্য কাজে সুইচ (Switch) করে। এই বারবার সুইচ করার ফলে কাজের গতি ধীর হয়ে যায় এবং মানুষের কর্মক্ষমতা প্রায় ৪০% কমে যায়।
২. আইকিউ (IQ) কমে যাওয়া
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টিটাস্কিং করার সময় মানুষের আইকিউ সাময়িকভাবে ১০ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এটি অনেকটা সারা রাত না ঘুমালে বা মাদক গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের যে অবস্থা হয়, তার সমান।
৩. ভুলের মাত্রা বৃদ্ধি
যখন মস্তিষ্ক বারবার মনোযোগ পরিবর্তন করে, তখন সূক্ষ্ম বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একসাথে অনেক কাজ করেন তারা সাধারণ মানুষের চেয়ে তিন গুণ বেশি ভুল করেন।
৪. দীর্ঘমেয়াদী মনোযোগের ক্ষমতা নষ্ট হওয়া
ক্রমাগত মাল্টিটাস্কিং করলে মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখার পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরবর্তী সময়ে আপনি চাইলেও কোনো একটি বই পড়া বা গভীর কোনো কাজে ৫-১০ মিনিটের বেশি মনোযোগ দিতে পারেন না (যাকে বলা হয় Short Attention Span)।
৫. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ (Stress & Anxiety)
মাল্টিটাস্কিং করলে শরীরে কর্টিসল (Cortisol) নামক স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর ফলে মানুষ দ্রুত খিটখিটে হয়ে পড়ে, মানসিক ক্লান্তিবোধ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে দুশ্চিন্তা বা অ্যাংজাইটিতে ভোগে।
৬. সৃজনশীলতা (Creativity) ধ্বংস করা
সৃজনশীল চিন্তার জন্য মস্তিষ্কের 'ডিপ থিংকিং' বা গভীর ভাবনার প্রয়োজন হয়। মাল্টিটাস্কিং মস্তিষ্ককে সবসময় ব্যস্ত রাখে কিন্তু কোনো বিষয়েই গভীরে যেতে দেয় না, ফলে নতুন কোনো আইডিয়া মাথায় আসে না।
৭. ব্রেইন টিস্যুর ক্ষতি
সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ল্যাপটপ, ফোন এবং টিভি একসাথে ব্যবহার করেন (Media Multitasking), তাদের মস্তিষ্কের অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স (যা আবেগ ও সমানুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে) অঞ্চলের ঘনত্ব কমে যেতে পারে।
ইউরী বজ্রমুনির ভাষায়: "বিক্ষিপ্ত মন কখনো বজ্রের মতো শক্তিশালী হতে পারে না। শক্তির মূল উৎস হলো একাগ্রতা।"
Comments
Post a Comment