থিবো মেরিস-এর বিখ্যাত বই "Do the Impossible"
থিবো মেরিস-এর বিখ্যাত বই "Do the Impossible" (অনুবাদক: আশিকুর রহমান খান) মূলত তাদের জন্য লেখা, যারা নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অসাধারণ কিছু অর্জন করতে চান। এই বইটির মূল নির্যাস বা সামারি নিচে দেওয়া হলো:
বইটির মূল দর্শন হলো—অসম্ভব বলে কিছু নেই, এটি কেবল আমাদের মনের একটি সীমাবদ্ধতা। লেখক এখানে দেখিয়েছেন কীভাবে ধাপে ধাপে নিজের মানসিক জড়তা কাটিয়ে লক্ষ্য অর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়।
১. অসম্ভবকে সংজ্ঞায়িত করা
লেখক শুরুতেই বলেছেন, আমরা যাকে 'অসম্ভব' ভাবি, তা আসলে অসম্ভব নয়; বরং তা হলো এমন কিছু যা আমরা আগে কখনো করার চেষ্টা করিনি। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা এবং সমাজের চাপ আমাদের চারপাশে এক অদৃশ্য দেয়াল তুলে দেয়। এই দেয়াল ভাঙাই হলো প্রথম কাজ।
২. আত্মবিশ্বাসের মিথ (The Myth of Confidence)
অনেকে মনে করেন কাজ শুরু করার জন্য আগে 'আত্মবিশ্বাস' প্রয়োজন। কিন্তু মেরিস বলেছেন, আত্মবিশ্বাস কাজের আগে আসে না, কাজের পরে আসে। আপনি যখন ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে কাজ শুরু করবেন, তখন আপনার ভেতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। তাই আত্মবিশ্বাসের জন্য বসে না থেকে কাজে নেমে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
৩. বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট খণ্ডে ভাগ করা
অসম্ভব লক্ষ্যগুলো আমাদের ভয় দেখায়। বইটিতে 'চ্যাঙ্কিং' (Chunking) পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আপনার বিশাল লক্ষ্যটিকে এত ছোট ছোট টুকরো করুন যা আপনার কাছে খুব সহজ মনে হয়। এতে মস্তিষ্ক ভয় পায় না এবং কাজ শুরু করা সহজ হয়।
৪. ব্যর্থতাকে গ্রহণ করা
থিবো মেরিসের মতে, যারা বড় কিছু করতে চায়, তাদের ব্যর্থ হওয়ার সাহস থাকতে হবে। ব্যর্থতা মানে থেমে যাওয়া নয়, বরং ব্যর্থতা হলো একটি ফিডব্যাক যা আপনাকে বলে দেয় কোন পথে কাজ হবে না। তিনি 'Fail Fast, Fail Forward' নীতিতে বিশ্বাসী।
৫. পরিবেশের প্রভাব
আপনি কাদের সাথে চলছেন এবং কী ধরণের তথ্য গ্রহণ করছেন, তা আপনার লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখে। যারা আপনাকে ছোট করে দেখে বা যারা নেতিবাচক কথা বলে, তাদের থেকে দূরে থাকা এবং সফল ব্যক্তিদের চিন্তাধারার সাথে যুক্ত হওয়া জরুরি।
৬. ধারাবাহিকতা (Consistency)
বইটির একটি শক্তিশালী বার্তা হলো—একদিনের বিশাল প্রচেষ্টার চেয়ে প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রচেষ্টা অনেক বেশি শক্তিশালী। অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য জিনিয়াস হওয়ার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন কেবল ধৈর্য এবং নিরবচ্ছিন্ন লেগে থাকা।
বইটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা (Key Takeaways):
আপনার 'কেন' (Why) বা উদ্দেশ্যটি পরিষ্কার করুন। উদ্দেশ্য বড় হলে বাধাকে ছোট মনে হবে।
অপেক্ষা করা বন্ধ করুন; নিখুঁত সময়ের কোনো অস্তিত্ব নেই।
নিজের কমফোর্ট জোন (Comfort Zone) থেকে বেরিয়ে আসুন, কারণ কমফোর্ট জোনে কখনো নতুন কিছু সৃষ্টি হয় না।
Comments
Post a Comment