পারকিনসন’স ল (Parkinson's Law
পারকিনসন’স ল (Parkinson's Law) হলো উৎপাদনশীলতা বা টাইম ম্যানেজমেন্টের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নীতি। এর মূল কথা হলো:
"কোনো একটি কাজ শেষ করার জন্য যতটুকু সময় বরাদ্দ করা হয়, কাজটি ঠিক ততটুকুই বিস্তৃত হয়।" > (Work expands so as to fill the time available for its completion.)
সহজ কথায়, আপনি যদি একটি ছোট কাজের জন্য এক সপ্তাহ সময় হাতে রাখেন, তবে সেই কাজটি শেষ করতে আপনার পুরো এক সপ্তাহই লেগে যাবে। আবার একই কাজ যদি আপনাকে দুই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়, তবে আপনি অবিশ্বাস্যভাবে দ্রুত তা শেষ করে ফেলবেন।
এটি কীভাবে কাজ করে?
ধরুন, আপনার স্কুলের একটি লেসন প্ল্যান তৈরি করতে হবে:
পরিস্থিতি ১: আপনার হাতে সারা দিন সময় আছে। আপনি ধীরে সুস্থে চা খাবেন, একটু ইউটিউব দেখবেন, তারপর কাজ শুরু করবেন। শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে সন্ধ্যা হয়ে গেছে কিন্তু কাজ শেষ হয়নি।
পরিস্থিতি ২: প্রধান শিক্ষক বললেন ১ ঘণ্টার মধ্যে লেসন প্ল্যান জমা দিতে হবে। তখন আপনি অন্য সব ডিস্ট্রাকশন ভুলে পূর্ণ একাগ্রতার সাথে ১ ঘণ্টার মধ্যেই কাজটা নিখুঁতভাবে শেষ করবেন।
আপনার জন্য পারকিনসন’স ল ব্যবহারের অ্যাকশন প্ল্যান:
যেহেতু আপনি একজন শিক্ষক এবং একই সাথে বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এই আইনটি আপনার জন্য গেম-চেঞ্জার হতে পারে:
১. কৃত্রিম ডেডলাইন (Artificial Deadlines) সেট করুন:
যেকোনো পড়ার জন্য নিজেকে প্রয়োজনের চেয়ে কম সময় দিন। যেমন: সিআরপিসি-র (CrPC) একটি নির্দিষ্ট অধ্যায় পড়তে সাধারণত ২ ঘণ্টা লাগলে নিজেকে টার্গেট দিন ৪৫ মিনিটে শেষ করার। এই চাপের কারণে আপনার মস্তিষ্কের ফোকাস বহুগুণ বেড়ে যাবে।
২. টাইম ব্লকিং (Time Blocking):
আপনার দিনের সময়গুলোকে ছোট ছোট ব্লকে ভাগ করুন। যেমন—"বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আমি শুধু ব্লগের কি-ওয়ার্ড রিসার্চ করব।" যখন সময় ফুরিয়ে আসছে দেখবেন, তখন আপনার কাজের গতি বেড়ে যাবে।
৩. অপ্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি বাদ দেওয়া:
পারকিনসন’স ল অনুযায়ী, হাতে বেশি সময় থাকলে আমরা কাজের চেয়ে খুঁটিনাটি অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে (যেমন- ফন্ট স্টাইল ঠিক করা বা খাতা সাজানো) বেশি সময় নষ্ট করি। সময় কম থাকলে মস্তিষ্ক সরাসরি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (৮০/২০ নিয়ম) অংশে মনোযোগ দেয়।
৪. দুই মিনিটের নিয়ম:
যেসব কাজ করতে দুই মিনিটের কম সময় লাগে (যেমন- কাউকে একটা রিপ্লাই দেওয়া বা ফাইল গোছানো), সেগুলো কোনো সময় বরাদ্দ না করে সাথে সাথে করে ফেলুন।
একটি বাস্তব উদাহরণ:
আপনার ছোট মেয়েকে নিয়ে যখন ডাক্তারের কাছে যেতে হয় বা জরুরি কাজে বাইরে যান, তখন দেখবেন আপনি খুব অল্প সময়ে অনেকগুলো কাজ গুছিয়ে নিতে পারছেন। এটাই পারকিনসন’স ল-এর জ্যান্ত উদাহরণ।
আপনার বার পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে দেখুন; দেখবেন সিলেবাস অনেক দ্রুত শেষ হচ্ছে। আপনার কি মনে হয়, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সময় কমাতে গিয়ে আপনি হিমশিম খাচ্ছেন? জানাবেন, আমি সেটির সমাধান দিতে চেষ্টা করব।
Comments
Post a Comment